Wednesday, December 21, 2022


জ্ঞানই শক্তি।Knowledge is power


যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত, সভ্য এবং অগ্রসর । শিক্ষা অর্জন মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকারও বটে । আমাদের দেশে যে ৫টি মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে কিন্তু শিক্ষা একটি । শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সার্বজনীন, অপরিহার্য, ব্যাপক । একজন মানুষকে প্রকৃত মানবিক ও সামাজিক গুণাবলী সম্পন্ন ব্যাক্তি হতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই । প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মানুষের মন- মানসিকতার উৎকর্ষ সাধন সম্ভব হয় । একটি কুপিবাতি যেমন তাহার পার্শ্ববর্তী এলাকাকে আলোকিত করে তোলে, ঠিক একজন মানুষ যখন সমাজে বিকশিত হয়ে উঠেন তখন তার সাথে তার পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রও আলোকিত হয়ে উঠে ।

পৃথিবীতে ভালোমতো টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ছাড়া বিকল্প কিছুই নেই । তাই বাঁচতে হলে জানতে হবে, জানতে হলে শিখতে হবে । কারণ একমাত্র শিক্ষাই পারে আলোকবর্তিকা হয়ে জীবন চলার পথ দেখাতে । একটি দেশ, একটি জাতির অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি হলো শিক্ষা । এই বিবেচনায় বলা হয়, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড । অর্থাৎ একজন মানুষ যেমনি মেরুদণ্ড সোজা করে স্থির দাঁড়াতে পারেন, ঠিক তেমনি একটি জাতির ভিত্তিমূল, উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে তার শিক্ষার উপর ।

এতে করে আরো সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা আলোকিত হবার সুযোগ লাভ করে । শিক্ষা ও দারিদ্র্যের মধ্যে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক বিরাজমান । প্রজন্মের পর প্রজন্ম দরিদ্র জনগোষ্ঠী কি অশিক্ষিতই থাকবে? দারিদ্র্য দূর করার জন্য চাই শিক্ষা । তাই আর্থিক ও মানসিক দারিদ্র্য দূর করার জন্য আনুষ্ঠানিক বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রকৃত ফলপ্রসূ সম্মিলন প্রয়োজন । বিশ্বায়ন এই ক্ষেত্রে বিশাল সুবিধা হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও, নানা কাঠামোগত বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না । অন্যদিকে উপযুক্ত কাজ এবং উপযুক্ত শ্রমিক একে অপরের নাগাল না পাওয়ায় তৈরি হচ্ছে একধরনের কূটাভাসের । এই সমস্যা সমাধানের পথগুলো আমাদেরকে ই খোঁজে বের করতে হবে ।

দেশের উন্নয়নের স্বার্থে মানব উন্নয়নে জোর দিতে হবে । এ ক্ষেত্রে পূর্ব এশিয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগাতে হবে । যেখান থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, শিক্ষা খাতে বর্ধিত বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে সুফল বয়ে আনতে পারে । শিক্ষা হচ্ছে এমন একটি সম্পদ যার মালিকানা, মালিকের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না । শিক্ষা এমন একটি সম্পদ যা ব্যবহার করলে তার দক্ষতা ও দীপ্তি আরও বৃদ্ধি পায় । জ্ঞান বা শিক্ষা অর্জনের খরচ ক্রমশ কমছে । ইন্টারনেটের কল্যাণে শিক্ষা এখন নখাগ্রে এসে উপস্থিত হয়েছে ।
অন্য সব সম্পদের উৎপাদনশীলতা তাদের ক্রমপুঞ্জীভবনের সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পায় । অথচ শিক্ষা যত ব্যবহার করা হবে তত তার দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে । তাই অন্যান্য সম্পদের তুলনায় শিক্ষার নিম্নমুখী, মধ্যমুখী সম্প্রসারণ আমাদের জন্য বৈষম্য কমানোর বিষয়েও সহায়ক হতে পারে । যেহেতু দরিদ্রের জ্ঞানসম্পদকে ধনী ব্যবহার করতে পারে কিন্তু দখল বা লুট করে নিতে পারে না । বিশেষত ইস্ট এশিয়ার মডেলে শিক্ষা ও সম্পদ প্রবাহকে বাজার ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের যুগপৎ ব্যবহারে দরিদ্র ও ধনী উৎপাদনশীল খাত অভিমুখে এমনভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছিল যে সেখানে একই সঙ্গে সমতা ও প্রবৃদ্ধি দুই- ই অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল ।

আমরা যখন উন্নয়নের কথা বলি তখন প্রায়ই ভুলে যাই যে বস্তুগত উন্নয়নই একমাত্র উন্নয়ন নয় । বস্তুগত উন্নয়ন শেষ বিচারে মানবিক উন্নয়নে কতটুকু পরিণত হলো তা দিয়েই বস্তুগত উন্নয়নের সার্থকতা পরিমিত হয় । এ জন্যই বর্তমান বিশ্বে বিশ্বব্যাংকের নিম্ন আয়, মধ্যম আয়, উন্নত আয় ইত্যাদি অভিধার পাশাপাশি প্রতিযোগী আরেকটি র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যার ভিত্তি মানব উন্নয়ন সূচক । এই সূচকের একটি অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে শিক্ষা । তাই শিক্ষাই হচ্ছে শক্তি। 

মোঃ আকতারুজ্জামান।

No comments:

Post a Comment